Operating systemWindows

Microsoft windows এর বিবর্তন । ১৯৮৫ থে‌কে ২০১৬

ন‌ভেম্বর ১০ , ১৯৮৩ । প্লাজা হো‌টেল, নিউইয়র্ক সি‌টি, মাই‌ক্রোসফট্ এর দুজন প্র‌তিস্ঠাতা পল এ‌লেন এবং বিল গেটস্ তা‌দের কর‌পো‌রেশন এর প্রথম এবং পরবর্তী প্রজ‌ন্মের গ্রা‌ফিকাল ইউজার ইন্টার‌ফেস (GUI) এর অপা‌রে‌টিং সি‌স্টেম Microsoft windows কে Graphical user interface for MS-DOS হি‌সে‌বে প‌রিচয় ক‌রি‌য়ে দেন ।Microsoft windows এর সব‌চে‌য়ে বড় প্র‌তিদ্ব‌ন্দি Apple Macintosh
os এর সা‌থে এর স্ট্যা‌বি‌লি‌টির পার্থক্য থাক‌লেও এ‌টি এখনও বাজা‌রের
সব‌চে‌য়ে বে‌শি ব্যবহৃত OS .এই আ‌র্টি‌কে‌লে আ‌মি আপনা‌দের নি‌য়ে যাব ১৯৮৫
সাল(Wndows 1.0) থে‌কে ২০১৬ (Windows 10) পর্যন্ত । আমরা দেখব কিভা‌বে
windows এর এমন বিবর্তন সম্ভব হল ।

Windows 1.01 (1985) :

অফি‌সিয়াল রি‌লিজ : ন‌ভেম্বর ২০ , ১৯৮৫ ।

এটা ছিল এক‌টি ১৬ বিট ওপা‌রে‌টিং সি‌স্টেম যা স‌র্বো‌মোট ১ মেগাবাইট
এরও কম ছিল ! এখা‌নে GUI এর মাধ্য‌মে মা‌ল্টি টা‌স্কিং করা যেত এবং এটা
MS-DOS 5.0 তে রান করত ।

MS Windows 1.01 screens

 

Windows 1.03 (1986) :

‌১৯৮৬ সা‌লে রি‌লিজ হয় । windows 1.03 হল হল এর আ‌গের ভার্শ‌নের এক‌টি আপ‌ডেট ।

মাজার বেপার হল , এই windows টির সাইজ মাত্র 2.2MB ছিল ।

Windows 2.03 (1987)

Intel 286/386 প্র‌সেসর এর স্পিড এর উপর নির্ভর ক‌রে ১৯৮৭ সা‌থে এই
ভার্শন‌টি রি‌লিজ হয় । এটাই windows প্রথম ভার্শন যেখান থে‌কে user windows
overlap করা এবং ডিস‌প্লে কাস্টমাইজ করার মত কাজ কর‌তে পারত ।

এর সাইজ ছিল ২.৫ MB ।

Windows 2.86 (1989) :

windows এর এই ভার্ নে বেশ‌কিছু ফিচার যুক্ত করা হয় । যেমন ক্যালকু‌লেটর ,ঘ‌ড়ি ইত্যা‌দি

Windows 3(1990):

এটা windows এর ৩য় বড় ধর‌নের রি‌লিজ । এই ভার্শ‌নে windows এর আইকন সেট
গুলার ভালই উন্ন‌তি করা হয় । এই ভার্শ‌নে যুক্ত করা হয় File manager এবং
program manager ।

Windows 3.1(1992):

windows 3.1 সম্ভবত এমন এক‌টি অপা‌রে‌টিং সি‌স্টেম ছিল যার সা‌থে
সব‌চে‌য়ে বে‌শি ইউজার ফে‌মে‌লিয়ার ছিল । এর ‌নেক্সট আপ‌ডেট windows 3x ছিল
এমন এক‌টি সি‌স্টেম যেখা‌নে মা‌ল্টি‌মি‌ডিয়া প্লেব্যাক সা‌পোর্ট করত ।

Windows NT 3.51 Workstation (1995) :

এই রি‌লিজ টি হয় মূলত ব্যবসায়ী‌দের জ‌ন্যে । উচ্চপর্যা‌য়ের
সি‌কিউ‌রি‌টির উপর গুরত্ব ছিল এই রি‌লি‌জের বি‌শেষত্ব । এখা‌নে প্রথম
OpenGL স্টান্ডার্ড এর গ্রা‌ফিক ব্যবহার করা হয় ।

WINDOWS 95 (1995): 

Windows এর এই  ভার্শনটা ছিল এর আগের সবগুলো ভার্শন  থেকে সবচেয়ে সফল
উত্তরসূরি । এটাতে ছিল সম্পূর্ন গ্রাফিকাল UI , integrated a 32-bit TCP/IP
(Transmission Control Protocol/Internet Protocol) , Dial up ইন্টারনেট
ব্যাবহার করার সুবিধা ।

Startup screen of MS Windows 95

MS Windows 98(1998):

উইন্ডোজ ৯৮ এর কোড নাম “মেমফিস”। এটি মাইক্রোসফটের আরওে একটি গ্রাফিকাল
ইউজার ইন্টারফেস অপারেটিং সিস্টেম। এ উইন্ডোজ ৯ এক্স সিরিজের ২য় সংস্করণ।
এটি বাজারে নামানো হয় ১৫ মে, ১৯৯৮ সালে। উইন্ডোজ ৯৫ এর পরবর্তী সংস্করণ
উইন্ডোজ ৯৮, এটি ১৬ বিট এবং ৩২ বিট এর হাইব্রিড সংস্করণ এবং এমএস ডস
ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ ৯৮ এ ২য়  সংস্করণ করা হয় ৫ মে ১৯৯৯
এবং পরবর্তীতে আবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে উইন্ডোজ মিলিনিয়া দ্বারা
সংস্করণ করা হয়। Microsoft Windows এর এই সংস্করণের সমাপ্তি ঘটছে ১১ জুলাই
২০০৬ এ।

Ms windows 98 screen

Windows ME (2000):

২০০০ সালের  ১৪ ই সেপ্টেম্বর বাজারে ছাড়া হয়। এটি উইন্ডোজ ৯ এক্স
সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ। উইন্ডোজ ৯৮ এর ২য় সেন্সর উইন্ডোজ এমই দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়। মূলত ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য এর সাথে
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৫.৫, উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার, আউটলুক এক্সপ্রেস ও
নতুন মুভি মেকার সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়। গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস এ
অনেক উন্নতি সাধিত হয়। এই সংস্করণে মাইক্রোসফট ডটনেট ২ এবং অফিস এক্সপি
সমর্থন করে।

Windows ME screens

Windows XP

অপারেটিং সিস্টেম গুলোর মধ্যে Microsoft Windows XP সবচেয়ে এগিয়ে। এটি
২০০১ সালে সর্ব প্রথম অবমুক্ত হয়। লিনাক্সের মত উইন্ডোজ  উন্মুক্ত না
হলেও সহজ এবং জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে উইন্ডোজ এক্সপি। বাংলাদেশে
এখনও অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করে।

Windows Vista

উইন্ডোজ ভিস্তা হচ্ছে পারসোনাল কম্পিউটারে বাবহারের জন্য নির্মিত
গ্রাফিকাল অপারেটিং সিস্টেম। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট পিসি এবং মিডিয়া
সেন্টার কম্পিউটারে ভিস্তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে । ২০০৫ সালের ২২ জুলাই
যখন ভিস্তার কাজ শুরু হয় তখন ভিস্তা “লংহর্ন” নামে পরিচিত ছিল। ২০০৬ সালের
8 নভেম্বর ভিস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারিতে
আনুষ্ঠানিকভাবে ভিস্তার বাজারজাতকরণ শুরু হয় এবং সর্বসাধারণের কাছে
পৌঁছানো হয়। উইন্ডোজ ভিস্তা উইন্ডোজ XP এর প্রায় পাঁচ বছর পরে বাজারে
আসে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ উইন্ডোজ ভিস্তা অপারেটিং সিস্টেমটি
তৈরীতে মাইক্রোসফট সর্বাধিক সময় ব্যয় করে।

Windows 7

উইন্ডোজ ৭ Microsoft Windows এর  একটি অন্যতম অপারেটিং সিস্টেম । ২০০৯
সালে এটি বাজারে ছাড়া হয়। এর ৩২ বিট এবং ৬৪ বিট দুই ধরনের সংস্করণ
রয়েছে। এটি জুলাই ২২, ২০০৯ প্রথম প্রকাশিত হলেও  অক্টোবর ২২, ২০০৯ এ এটি
সারা বিশ্বে প্রকাশিত হয়। শুরুতে মাইক্রোসফট এই কোডটির নাম দেয় “ভিয়েনা”
এবং পরবর্তী তে “ব্ল্যাকবাম” নামে প্রকাশ করা হয়। এটি মূলত মাইক্রোসফট
উইন্ডোজ সেভেন এবং উইন্ডোজ ভিস্তার আপডেট সংস্করণ।

Windows 8

উইন্ডোজ 8 Microsoft Windows অপারেটিং সিস্টেম এর পরবর্তী সংস্করণ, যা
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭ কে অনুসরণ করে তৈরি করা হয়। এই সংস্করণে পূর্ব
সংস্করণ থেকে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষত এটিতে Intel এবং AMD এর  32
বিট মাইক্রো প্রসেসর সাপোর্ট ছাড়াও ARM মাইক্রো প্রসেসর সাপোর্ট যোগ করা
হয়েছে। এটিতে প্রথম টাচ স্ক্রিন ইনপুট সাপোর্ট করানো হয় এবং স্টার্ট মেনু
প্রতিস্থাপন করে নতুন একটি ইন্টারফেস যুক্ত করা হয়।

Windows 8.1

উইন্ডোজ ৮.১ Microsoft Windows অপারেটিং সিস্টেম মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৮
এর পরবর্তী সংস্করণ, যা উইন্ডোজ 7 এবং 8 অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এটি
২০১৩ সালে রিলিজ হয়।

Windows 10

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ হচ্ছে Microsoft Windows অপারেটিং সিস্টেম এর
সর্বশেষ সংস্করণ। এটি প্রকাশ করা হয় ২০১৪ সালে  ১৪ ই সেপ্টেম্বর এবং ২০১৫
এর ২৯ জুলাই এটি মুক্তি পায়।

সফটওয়্যার এবং ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়
মাইক্রোসফটের বার্ষিক বিল্ড কনফারেন্স। এর লক্ষ্য মূলত ব্যবহারকারীর নিজস্ব
প্রয়োজনীয় ফিচারগুলি যথাযথ ব্যবস্থা করা, যা প্রথম উইন্ডোজ ৮ এর মাধ্যমে
পরিচিত করা হয়। এটির সাথে আরও কিছু ফিচার সংযুক্ত করা হচ্ছে। ডেস্কটপ
কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মতো টাচস্ক্রীন ডিভাইসগুলিতে এটি সহজেই ব্যবহার
করা যাবে। এছাড়াও এতে রয়েছে Windows স্টোরের অ্যাপ ডাউনলোড করার শুবিধা।
মাইক্রোসফট থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এর পরে থেকে মাইক্রোসফট আর নতুন
কোন অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করবে না। নতুন আপগ্রেড প্রদান করে এটিকে আরও
উন্নত করা হবে। এর সর্ব শেষ ভার্সন হচ্ছে 1709, বিল্ট 16299.19 যা
১৭ অক্টোবর ২০১৭ তে অবমুক্ত হয়।
আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে  আমরা মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে
বিভিন্ন তথ্য জানলে পারলাম। এরকম আরও তথ্য জানতে www.csbangla.ml এর সাথেই
থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close